সারাদেশ
প্রচার-প্রচারণাহীন খানা জরিপ
ডিমলায় তথ্য দিতে চাচ্ছে না অনেকে, বিপাকে গনণাকারীরা
সঠিক সময়ে কাজ শেষ হওয়া অনিশ্চিত
মহিনুল ইসলাম সুজন, ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
Published : Friday, 21 April, 2017 at 7:40 PM
নীলফামারীর ডিমলায় সরকারের জনগুরুত্বপূর্ণ খানা তথ্য ভা-ার শুমারীর কার্যক্রম চলছে প্রচার প্রচারণা ছাড়াই। ফলে তথ্য প্রদানে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। পাশাপাশি তথ্য সংগ্রহে অনেকটাই বিপাকে পড়েছেন গণনাকারীরা। ডিমলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অল্প শিক্ষিত, অদক্ষ ব্যাক্তিদের নিয়ে মাঠ জরিপ করার অভিযোগ পাওয়া যায়। তিনি একই পরিবারের একাধিক ব্যাক্তিকে গননাকারী ও এসএসসি পাস করে এমন গননাকারী নিকট টাকা উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যায়। উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের ১৫জন যোনাল. সুপারভাইজার ৭৫ ও গননাকারী ৩৮২জন কাজ করছে।
জানা যায়, ন্যাশনাল হাউজ হোল্ড ডাটাবেজের (এনএইচডি) আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে খানা ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয় গত ৪ এপ্রিল থেকে। তথ্য সংগ্রহ শুরুর আগে সাধারণ মানুষ ওই শুমারীর সম্পর্কে সচেতন করতে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার কথা। প্রচারণার অংশ হিসেবে বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টারিং, মাইকযোগে প্রচারণা, পোস্টার ও লিফলেট বিতরণ রয়েছে। কিন্তু জেলার কোথাও ওই প্রচারণার কাজ হয়নি বলে জানান এলাকাবাসী।
ডিমলা উপজেলার বাবুরহাট গ্রামে সহিদুল ইসলাম বলেন, আগে দেখেছি সরকারের যেকোন শুমারী হলে এলাকায় ব্যাপক প্রচার প্রচারণা থাকতো। কিন্তু এবারে খানা জরিপ হচ্ছে কোন ধরণের প্রচারণা ছাড়াই। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষ ওই শুমারী নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়েছে। অনেকে তথ্য প্রদানে দ্বিধা-দ্বন্দে ভুগছে। এতে করে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ।
একই এলাকার আবুল কালাম বলেন ‘এলাকায় খানা জরিপ হচ্ছে এমন কথা আগে শুনিনি। হঠাৎ করে বাড়িতে লোক এসে জরিপের তথ্য চাওয়ায় বিব্রত অবস্থায় পড়েছিলাম আমি। প্রচার প্রচারণা থাকলে সেটি নিয়ে আমার নিজস্ব একটা প্রস্তুতি থাকতো।’
খানা জরিপের কাজে নিয়োজিত  ডিমলা সদর ইউনিয়নের বালাপাড়া ইউনিয়নের যোনাল অফিসার শাহিনুর রহমান বলেন ‘প্রচার প্রচারণার অভাবে জরিপ কাজে সমস্যা হচ্ছে। বেশিরভাগ খানা প্রধান সহজে তথ্য দিতে চাচ্ছে না। জরিপের কাজে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জম্মনিবন্ধন সনদ প্রয়োজন। প্রস্তুতি না থাকায় অনেকের কাগজ খুঁজতে সময় অপচয় হচ্ছে। এক কারণে একটি পরিবারের জরিপে যেখানে ৩০ মিনিট সময় ব্যয় হওয়ার কথা সেখানে এক ঘন্টারও বেশি সময় লাগছে। এমনকি একটা খানার তথ্য নিতে দুই বা তিনদিনও ওই বাড়িতে যেতে হচ্ছে।’
ডিমলা সদর ইউনিয়নের গননাকারী রাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ইউনিয়নের দক্ষিন তিতপাড়া গ্রামে আমি গণনার কাজ করছি। এলাকায় প্রচার প্রচারণা না থাকায় তথ্য দিতে অনেকে বিলম্ব করছে। এ কারণে সময় অপচয় হচ্ছে।’
ডিমলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কোথাও প্রচারণার খবর পাওয়া যায়নি। চোখে পড়েনি খানা জরিপ সংক্রান্ত কোনো পোস্টার। উপজেলাল ছাতনাই গ্রামের আব্দূল লতিফ নামের একজন খানা প্রধান বলেন, ‘এইটা ক্যামোন কথা বায়, ‘এলাকাত খানা জরিপ হইবে তারতো কোনো মাইকিং নাই! হামরা বুজমো ক্যামোন কায় ওমরা (গনণাকারী) ক্যানে আইসছে। তার উপর হামরাতো কামোত যাই, ওমরা হামার দেখাও পায় না।’
গনণাকারীরা অভিযোগ করেন, প্রচারণা না থাকায় তথ্য সংগ্রহে খুব কষ্ট হচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণনার কাজে নিয়োজিত ডিমলা উপজেলার একাধিক জোনাল কর্মকর্তা ও সুপারভাইজার বলেন, ‘সরকারের বৃহত এই কাজে শুধুমাত্র প্রচারণা না থাকায় সঠিক তথ্য মিলছে না। এমনকি সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।’ তারা অভিযোগ করেন, ভিন্ন সংস্থা প্রচারণার দায়িত্বে থাকলেও উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা কাজের প্রায় শেষ দিকে কিছু পোস্টার জোনাল কর্মকর্তাদের হাতে ধরিয়ে দিয়েছেন। অথচ সরকার ওই প্রচারণার কাজে অন্য একটি সংস্থাকে খরচ দিচ্ছে। তাছাড়া ওই পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এলাকায় সরাসরি না গিয়ে ভুল-ভ্রান্তি দেখার অজুহাতে প্রায় প্রতিদিন জোনাল অফিসার ও সুপারভাইজারদের মাধ্যমে গনণাকারীদের একখানে জড়ো করছেন। এতে তথ্য সংগ্রহ কাজ বন্ধ থাকায় সঠিক সময়ে তথ্য সংগ্রহ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে বলেও জানান তারা। অভিযোগ উঠেছে ডিমলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এমদাদুল হকের বাড়ীতে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত গননাকারীগন ভিড় জমাচ্ছে।
ডিমলা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এমদাদুল হক এলাকায় প্রচার-প্রচারণা না থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্রচারণার কাজটি আমাদের নয়। ওই কাজটি যাদের করার কথা তারা না করে আমাকে কিছু পোস্টার, ব্যানার এবং লিফলেট জোর করে ধরিয়ে দিয়েছে। গননাকারীদের নি¤œতম এইচএসসি পাস করার কথা থাকলেও কিছু ব্যাক্তিকে সুপারিশের কারনে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। অদক্ষ ও সল্প শিক্ষিতদের কারা সুপারিশ করেছেন বলতে রাজী হয়নি। রাতে আধারে গননাকারীদের প্রসঙ্গে বলেন অফিসে স্থান সংকুলানের কারনে বাড়ীতে বসে বিভিন্ন  পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে।
নীলফামারীতে জরিপ কাজের দায়িত্বে থাকা পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপ-পরিচালক শহিদুল ইসলাম প্রচার প্রচারণার বিষয়ে বলেন, ‘আপনারা যেমনটি দেখছেন, আমরাও তেমনটিই দেখছি। এলাকায় যেভাবে প্রচার প্রচারণা করার কথা সেটি না হওয়ায় অন্যদের ন্যায় আমিও কাজে অসুবিধা বোধ করছি।’ তিনি জানান, প্রচারণার ওই কাজটির জন্য অন্য একটি কোম্পাণী সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
কার্যক্রম পরিচালনায় নীফামারী জেলায় দুইজন জেলা শুমারী সমন্বয়কারীর তত্ববধানে ছয়জন উপজেলা সমন্বয়কারী, ৮৪জন জোনাল অফিসার, এবং এক হাজার সুপারভাইজার ও দুই হাজার ৫০০ গণনাকারী মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তত্বাবধানে খানা জরিপের প্রথম পর্যায়ে ৪ এপ্রিল কার্যক্রম শুরু হয় রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগে। সেটি সমাপ্ত হবে আগামী ২৩ এপ্রিল। এরপর পর্যায়ক্রমে দেশের সব জেলায় শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft