শিক্ষা বার্তা
শর্তপূরণ না করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারবে না : শিক্ষামন্ত্রী
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 20 April, 2017 at 8:29 PM
শর্তপূরণ না করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারবে না : শিক্ষামন্ত্রীশিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদবেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার নামে কাউকে সার্টিফিকেট বাণিজ্য করতে দেওয়া হবে না বলে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বলেন, শর্ত পূরণ না করে কেউ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারবে না। এরইমধ্যে ২৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাস চালু করেছে। বাকিগুলোর মধ্যে কয়েকটি ছাড়া সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ই স্থায়ী ক্যাম্পাসে যাওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সিলেট মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সিংহভাগ শিক্ষকই মাথার মণি। (প্রশ্নপত্র ফাঁসকারী) কিছু শিক্ষক ‘কুলাঙ্গার’ মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এরা ক্লাসের বাইরে টাকা নিয়ে পড়ায়, এরা প্রশ্নফাঁসে জড়িত। তাই তারা ধরাও পড়ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পরবর্তী আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সালেহ উদ্দিন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া ধনী ব্যক্তিরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় খুলে একসময় মুনাফা করেছে, সার্টিফিকেট বিক্রি করাই ছিল তাদের লক্ষ্য। ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সেই ধারা বন্ধ করে দিয়েছে। সরকার চায়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন মান ও আস্থার দিক থেকে উন্নত পর্যায়ের হয়। তিনি বলেন, ‘আমরা জ্ঞান ও প্রযুক্তির আমদানিকারক থাকতে চাই না বরং রফতানিকারক হতে চাই। বর্তমান সরকার দেশে ৪০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম এবং ৪৫ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ল্যাবরেটরি করেছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা যেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের সব শাখায় সমানভাবে বিচরণ করতে পারে, সেটাই আমরা নিন্ডিত করছি। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় ব্যবসার উদ্দেশ্যে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১০ সালে আইন করে এগুলোকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে এখন কাউকে ব্যবসা বা সার্টিফিকেট বাণিজ্য করতে দেওয়া হচ্ছে না। শর্তপূরণ না করে কেউ বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে পারবেন হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সকল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে হবে। শর্ত পূরণে যারা ব্যর্থ হবে তাদের অনুমোদন বাতিল করা হবে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সরকারি চাকরি পেতে কোনো বৈষম্যের শিকার হবেন না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সবার জন্য সরকারি সুযোগ উন্মুক্ত। যার যার মেধা দিয়ে সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে জানিয়ে নাহিদ বলেন, মঞ্জুরী কমিশনের কর্মপরিধি আরও বাড়ানো হবে। যাতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর নজরদারি বাড়ানো যায়। এখন দেশে ১৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ক্ষমতা আরও বাড়াতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব মো. সাইফুজ্জামান শিখর, ডিবিসি টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল ইসলাম। সহকারী প্রক্টর অ্যাডভোকেট মো. আব্বাস উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ ফজলুর রব তানভীর, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কামরুল আহসান, খাদিমপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আফছর আহমদ। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব চৌধুরী মুফাদ আহমেদ, মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ইমেরিটাস অধ্যাপক আবদুল আজিজ, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শিব প্রসাদ সেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক খন্দকার মাহমুদুর রহমান, পরিচালক (প্রশাসন ও শিক্ষা) তারেক ইসলাম, পরিচালক (অর্থ) মিহির কান্তি চৌধুরী, সহকারী রেজিস্ট্রার লোকমান আহমদ চৌধুরী, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন সেলিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে ক্যাম্পাসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শিক্ষামন্ত্রীসহ অতিথিরা। সিলেট সদর উপজেলার বটেশ্বরে ৮ একর জমির উপর গড়ে ওঠা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির অত্যাধুনিক স্থায়ী ক্যাম্পাস পেয়ে উৎফুল্ল শিক্ষার্থীরাও।



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft