অর্থকড়ি
নওগাঁর রাণীনগরে বেড়েছে সেচ সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ
মোফাজ্জল হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি :
Published : Thursday, 20 April, 2017 at 8:14 PM
নওগাঁর রাণীনগরে বেড়েছে সেচ সাশ্রয়ী ফসলের আবাদনওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তার প্রচেষ্টায় বিগত তিন বছরে সেচ সাশ্রয়ী ফসল আউশধান, গম, ভুট্টা ও সরিষার আবাদ বেড়েছে প্রায় দ্বিগুন পরিমাণ। বর্তমানে উপজেলার কৃষকরা দিন দিন সেচ সাশ্রয়ী ফসল চাষের দিকে বেশি ঝুঁকছেন বলে জানা গেছে। আজ অনেক কৃষকরা এই সেচ সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ করে কম খরচে দ্বিগুন লাভ করছে আর উদ্ধুধ হচ্ছে অনেকেই। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা, রাণীনগর উপজেলায় বিগত তিন বছরে আউশধানের আবাদ বেড়েছে ৯০ হেক্টর, গমের আবাদ বেড়েছে ৪৪০ হেক্টর, ভুট্টার আবাদ বেড়েছে ১৮০ হেক্টর ও সরিষার আবাদ বেড়েছে ২০০০ হেক্টর। কৃষি কর্মকর্তা ও তার অফিসের মাঠ কর্মীদের প্রচেষ্টায় এই সেচ সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বেড়েছে বলে অনেকে মনে করেন। উপজেলার প্রতিটি গ্রামের কৃষকদের এই সেচ সাশ্রয়ী আবাদ সম্পর্কে সচেতন করার জন্য কৃষি অফিস থেকে প্রতি সপ্তাহে মাঠ দিবস ও কৃষক সমাবেশের আয়োজন করা হতো। এই সমাবেশের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে পৌছে দেওয়া হতো এই সব সেচ সাশ্রয়ী আবাদের উপকারীতা সম্পর্কে। আর উপজেলার ৬টি ইউপিতে কৃষক মাঠ স্কুল থেকে কৃষক-কৃষাণীরা এই সেচ সাশ্রয়ী আবাদ বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা নিয়ে তারা প্রয়োগ করছেন বাস্তব জীবনে। বিগত বছর গুলোতে ধানের চেয়ে এই সেচ সাশ্রয়ী ফসলের মূল্য বাজারে ভালো পাওয়ায় কৃষকরা আরো অতি উৎসাহিত হচ্ছেন। এছাড়াও সরকারের পক্ষ থেকে এই সব সেচ সাশ্রয়ী আবাদ করার জন্য প্রণোদনা অর্থাৎ কৃষকদেরকে সহায়তা করাও যথেষ্ট ভুমিকা রাখছে এই সেচ সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বৃদ্ধির পেছনে। কম পরিশ্রমে ও কম খরচে দ্বিগুন লাভ করা সম্ভব এই সব সেচ সাশ্রয়ী ফসল থেকে। তাই বর্তমান কৃষকদের কাছে একটাই শ্লোগান সেচ সাশ্রয়ী আবাদ করো বেশি করে লাভ করো। খট্টেশ্বর গ্রামের কৃষক খোরশেদ আলম জানান, তিনি বিগত দিনে ইরি-বোরো ধানের আবাদ করে তেমন লাভের মুখ দেখতেন না। কিন্তু আমি বর্তমানে সেচ সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ বেশি করছি। এতে আমার লাভ দ্বিগুন হচ্ছে। তাই আমি আগামীতে এই সেচ সাশ্রয়ী আবাদের পরিমাণ আরো বৃদ্ধি করবো। বাহাদুরপুর গ্রামের আলমগীর হোসেন জানান, দিন যতই যাচ্ছে ততই বোরো আবাদের খরচ বাড়ছে। তার তুলনায় সেচ সাশ্রয়ী এই আবাদগুলো চাষ করে অনেক লাভ করা সম্ভব। তাই আমি এই মৌসুমে ভুট্টার আবাদ বেশি করেছি। স¤প্রতি উপজেলার পূর্ববালুভরা গ্রামে মাঠ দিবস শেষে সেচ সাশ্রয়ী আবাদ ভুট্টার ক্ষেত পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাবৃন্দ। এসময় তারা কৃষকদের সেচ সাশ্রয়ী এই আবাদগুলো বেশি বেশি চাষ করার আহবান জানান। পরিদর্শনে অংশ নেন উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ হারুনুর রশিদ, মহিলা ভাইস চেয়রম্যান ছনিয়া ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার, কৃষি স¤প্রসারণ কর্মকর্তা সবুজ কুমার সাহা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান পিন্টু, উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, হাবিুবুর রহমান, খোকন প্রমুখ। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এসএম গোলাম সারওয়ার জানান, আমরা সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ মোতাবেক কৃষকদেরকে সেচ সাশ্রয়ী ফসলের আবাদ করার জন্য বিভিন্ন ভাবে জনসচেতনতা বৃদ্ধির চেষ্টা করছি। কারণ বোরো ধানে পানি সেচ সবচেয়ে বেশি লাগে। এতে খরচ অনেক বেশি হলেও কৃষকরা মুনাফা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ সেচ সাশ্রয়ী আবাদ থেকে অনেক লাভ করা সম্ভব।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft