জাতীয়
ইসলামী দলগুলো নিয়ে নানামুখী পরিকল্পনা বিএনপির
কাগজ ডেস্ক :
Published : Thursday, 20 April, 2017 at 7:28 PM
ইসলামী দলগুলো নিয়ে নানামুখী পরিকল্পনা বিএনপিরইসলামী দলগুলোকে জোটে ধরে রাখার পাশাপাশি অন্য দল ও সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে উদ্যোগ নিচ্ছে বিএনপি। তবে বেশকিছু দিন ধরে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটের শরিক কয়েকটি ইসলামী দলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সম্প্রতি হেফাজত ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের সম্পর্কোন্নয়ন ভাবনায় ফেলেছে দলটিকে।
ক্ষমতার রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর তেমন গুরুত্ব না থাকলেও ভোটের মাঠে তাদের একটা প্রভাব আছে। সঙ্গত কারণে দেশের বড় রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন সময়ে ইসলামী দলগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেছে। বিএনপিও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি ইসলামী দলের পাশাপাশি ছোট কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে প্রথমে চার-দলীয় জোট, পরে ১৮-দলীয় জোট এবং বর্তমানে ২০-দলীয় জোট করে রাজনীতির মাঠে আছে। এর বাইরে ইসলামী বিভিন্ন দল ও সংগঠনকে নানা ইস্যুতে সমর্থন দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টাও করেছে বিএনপি। আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ বরাবরই ধর্মনিরপেক্ষতার বিষয়টি সামনে রাখায় ইসলামী দলগুলোর সমর্থন নিয়ে বিএনপি নিশ্চিন্ত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি আওয়ামী লীগ ইসলামী দল এবং সংগঠনগুলোর বিভিন্ন দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নে উদ্যোগ নেয়ায় দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে বিএনপি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জোটের অন্যতম শরিক হলেও যুদ্ধাপরাধ বিচার ইস্যুতে দলের শীর্ষ নেতাদের বিচার প্রক্রিয়ার সময় বিএনপির নীবরতার কারণে জামায়াতের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের অবনতি হয়। যুদ্ধাপরাধী নেতানির্ভর এই রাজনৈতিক দলটির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আন্দোলনে রাজপথের সুবিধা আদায় এবং নির্বাচনে জামায়াতর ভোট ব্যাংকের কারণে এত দিন বিএনপি তাদের ব্যবহার করেছে। কিন্তু জামায়াতের দুর্দিনে কোনো সহযোগিতা ও সমর্থন পায়নি বিএনপির কাছ থেকে। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন যুদ্ধাপরাধী ইমেজের কারণে জামায়াতকে সঙ্গে রেখে তাদের শুধু ক্ষতিই হয়েছে। পাশাপাশি জামায়াতবিরোধী অনেক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল তাদের কাছে ভিড়ছে না। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই দলের মধ্যে দূরত্ব অনেক বেড়েছে। তবে আরও বড় রাজনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কায় প্রকাশ্যে বিপরীতমুখী অবস্থানের বিষয়টি জানান দেয়নি দল দুটি। অন্যদিকে জোটের শরিক ইসলামী ঐক্য জোটের মূল অংশ বের হয়ে গেছে বিএনপি জোট থেকে। এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামীর কর্মসূচির প্রতি সমর্থন দিয়ে বিএনপি এই সংগঠনের মন জয় করে। পরবর্তীতে ভোটের মাঠে এর সুবিধা পাওয়া নিয়েও নিশ্চিত ছিল বিএনপি। আর ওই কর্মসূচিতে হেফাজতের অসংখ্য নেতাকর্মী হতাহত হওয়ার গুজব শাসক দলের সঙ্গে সংগঠনের শুধু দূরত্বই বাড়ায়নি, একেবারে শত্রুতেও পরিণত করেছিল। বিএনপির কর্মসূচিতে হেফাজতের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবেন এমন সমঝোতাও হয়েছিল বলে শোনা যায়। কিন্তু সম্প্রতি ক্ষমতাসীনরা হেফাজতের বিভিন্ন দাবি মেনে নিয়ে তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার সংবাদে বিএনপির দুঃশ্চিন্তা বাড়িয়েছে। সঙ্গত কারণেই ইসলামী দলগুলোকে নিজেদের অনকূলে রাখতে নানামুখী পরিকল্পনা করছে বিএনপি।
বিএনপির সিনিয়র এক নেতা জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিটি রাজনৈতিক দলই নিজস্ব কৌশল নিয়ে কাজ করছে। শুধু বড় রাজনৈতিক দল যে কৌশলে আছে তা নয়, ছোট রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় কৌশল প্রণয়ন করছে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো চাচ্ছে ছোট দলগুলোকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে বলয় বাড়াতে। আর ছোট দলগুলো দর-কষাকষি করে নিজেদের স্বার্থ আদায়ের চেষ্টা করছে। তাই এখন কীভাবে অধিক সংখ্যক দলকে নিজেদের অনুকূলে রাখা যায় সেই চেষ্টা করছে বড় দলগুলো। আর ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে ভোটারের চাওয়া-পাওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে ইসলামী দলগুলোকে প্রথম টার্গেট করা হয়েছে। সঙ্গত কারণেই বলয় শক্তিশালী করার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। বিএনপিও এ ব্যাপারে নানামুখী উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রথমে নিজ জোটের কোনো দল যাতে জোট থেকে বের হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরপর অন্য জোটের দলগুলোকেও কীভাবে জোটভুক্ত করা যায় সে চেষ্টাও করা হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার ২০-দলীয় জোটের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকেও ইসলামী দলের কদর বাড়ছে বা অনেকে তাদের জোটে নেয়ার চেষ্টা করার বিষয়ে আলোচনা হয়। যারা জোটে আছে তারা যাতে জোট থেকে বের হয়ে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকার বিষয়টিই বৈঠকের আলোচনায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত এক নেতা বলেন, ইসলামী দলগুলোকে জোট থেকে বের করে নিতে সরকার নানামুখী চাপ দিচ্ছে। আবার কোনো কোনো দল তাদের জোটে টানতে নানা ধরনের উদ্যোগ নিচ্ছে। এই বিষয়টি জোটকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া উচিত। তাই জোট যাতে আবারও ভাঙনের মুখে না পড়ে সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। জোটের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়াতে হবে।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসলামী দল ও সংগঠন নিয়ে শাসক দলের তৎপরতা বিএনপিকে ভাবনায় ফেলছে। এর প্রমাণ পাওয়ায় যায় সম্প্রতি দেয়া দলটির শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যে। বুধবার বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন। দেশের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের অনুভূতিকে এক্সপ্লয়েট করার জন্য শেখ হাসিনা ভারত সফরের আগে আলেম সম্মেলন করেন। ফিরে এসে আবার হেফাজতে ইসলাম প্রভাবিত কওমি মাদ্রাসার ওলামায়ে কেরামদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। আলেমদের সঙ্গে তার অতীত আচরণ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ওপর ক্রমাগত আঘাতের কথা দেশবাসী নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি। এখন তিনি নিজেই ধর্ম নিয়ে রাজনীতি শুরু করেছেন। অতীতেও তাই করেছেন। একইভাবে আগামী নির্বাচনে 'মুসলিম ভোট' হাতে নিতেই প্রধানমন্ত্রী হেফাজতে ইসলামের সাথে সখ্য করছেন বলে অভিযোগ করে বক্তব্য দিয়েছেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, রিজভী আহমেদসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা।
ইসলামী দলগুলো নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক কর্মকান্ড ও বিএনপির ভাবনা প্রসঙ্গে দলের কমিটির সদস্য লে জে অব. মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজনীতির হিসাব-নিকাশ থেকে ইসলামী দলগুলোকে বিভিন্ন দল টানার চেষ্টা করছে। রাজনীতিতে লোক টানা, দল টানা, ভোট টানা, এটা তারই অংশ। তবে যাই হোক রাজনীতিতে ধর্মকে ব্যবহার করা উচিত নয়। ধর্ম ধর্মের জায়গায়, রাজনীতি রাজনীতির জায়গায় থাকা উচিত।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft