শিক্ষা বার্তা
নানা সমস্যায় জর্জরিত ধামনপাড়া প্রতিবন্ধী প্রাথমিক বিদ্যালয়
প্রতিবন্ধী শিশুরা মেঝেতে বসে ক্লাস করছে : দেখার কেউ নেই
তাপস কুমার, নাটোর থেকে :
Published : Wednesday, 19 April, 2017 at 7:11 PM
প্রতিবন্ধী শিশুরা মেঝেতে বসে ক্লাস করছে : দেখার কেউ নেইনাটোরের নলডাঙ্গার ধামনপাড়া গ্রামের প্রতিবন্ধী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে নানা সমস্যা নিয়ে। স্কুলটি শিক্ষায়তনিক স্বীকৃতি না পেলেও উপজেলার একমাত্র প্রতিবন্ধী স্কুল হওয়ায় দূর-দূরান্ত থেকে মায়েরা তাদের প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা অর্জনের জন্য প্রতিদিনই এই স্কুলে নিয়ে আসছেন। প্রতিবন্ধী এসব শিশুদের আনা নেওয়ার জন্য স্কুলের পক্ষ থেকে নেই কোনো যানবাহন। শিক্ষকদের সকলেই স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে নিয়মিত পাঠদান করে যাচ্ছেন।
এত সমস্যা সত্ত্বেও অভিভাবকরা তাদের প্রতিবন্ধী সন্তানদের জীবনযুদ্ধে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রতিদিনই নিজেদের খরচে স্কুলে আনা নেওয়া করছেন। অভিভাবক ও স্থানীয় বিদ্যোৎসাহীদের সহায়তায় স্কুলটি এগিয়ে চলেছে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরাও আনন্দ পায় স্কুলে এসে।
স্কুলের শিক্ষকরাও এসব শিশুদের বাবা-মার আদর দিয়ে তাদের লেখা-পড়া করান। তবে প্রয়োজনের তুলনায় ব্রেঞ্চ না থাকায় প্রতিবন্ধী এসব শিশুদের মেঝেতে বসেই পড়ানো হয়। বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শিহাব, সাদিয়া, তামিম ও রাফিয়া এরা সবাই প্রতিবন্ধী। ১১ থেকে ৭ বছর বয়সী এরা। এদের কেউ শারীরিক, কেউ বাক প্রতিবন্ধী। এরা স্কুলে এসে আনন্দ পায়। তবে ওরা কষ্ট পায় স্কুলে যাতায়াতের রাস্তাটি কাঁচা এবং স্কুলে বিদ্যুৎ ও বাথরুম না থাকার জন্য। এদের কেউ কেউ ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার দূর থেকে আসে।
সাত বছরের তামিমের মা ফরিদা পারভিন জানান, তিনি প্রায় ৭ কিলোমিটার দূর নলডাঙ্গা উপজেলা সদর থেকে আসেন। স্কুলের কোনো বাহন না থাকায় নিজেরাই ভ্যান রিকশা ভাড়া করে স্কুলে আসেন। কষ্ট হলেও স্কুলে ভর্তি করার পর তামিমের লেখাপড়ার আগ্রহ বেড়েছে। একদিন স্কুলে আনতে না পারলে বাড়িতে বিরক্ত করে।
১১ বছরের শিহাবকে তার মা শরিফা বেগম প্রতিদিন তিন কিলোমিটার দূরে বারোঘরিয়া গ্রাম থেকে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, তার বিশ্বাস তার ছেলে প্রতিবন্ধী হলেও লেখাপড়া শিখে একদিন বড় হবে আর নিজেই উর্পাজন করবে।
শিহাব, সাদিয়া, তামিম ও রাফিয়া জানায়, শিক্ষা অর্জন করে তারা দেশের হয়ে ভাল কাজ করতে চায়। সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে চায় তারা। সুযোগ সুবিধাসহ সহায়তার হাত বাড়ানোর দারি এসব প্রতিবন্ধী শিশু ও তাদের অভিভাবকদের। এজন্য তারা সরকার ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
স্কুল কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে এলাকাবাসীর সহায়তায় উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ধামনপাড়া এলাকায় প্রতিবন্ধী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। প্রথমদিকে ভাড়া বাসায় স্কুলের কার্যক্রম শুরু করা হলেও বর্তমানে নিজস্ব জমির ওপর টিনের চালা ঘরে চালানো হচ্ছে স্কুলের কার্যক্রম। নানা সমস্যা নিয়ে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে। বিদ্যুৎ সংযোগ, নলকূপ ও বাথরুম না থাকায় শিক্ষকসহ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের আনা নেওয়ার কোনো যানবাহন নেই। ফলে দূরদূরান্ত থেকে শিক্ষার্থীদের কষ্ট করে স্কুলে আনতে হয় অভিভাবকদের।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা খাতুন জানান, বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৭৪ জন প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত স্কুলে আসে ৪০ থেকে ৪৫ জন। ১২ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী এই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন। তিনি সহ প্রত্যেক শিক্ষককে কোন বেতন দেওয়া হয় না। শিক্ষকদের মধ্যে ১০ জনের প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ রয়েছে। এছাড়া নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে তারা পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা পরিষদের ওয়ার্ড সদস্য রইস উদ্দিন রুবেল জানান, সকলের সহায়তা নিয়েই চলছে বিদ্যালয়টি। ইতিমধ্যে এলাকায় সুনামও অর্জন করেছে। বসার ব্রেঞ্চ না থাকায় প্রতিবন্ধী শিশুদের মেঝেতে বসেই ক্লাস করতে হয়। সমস্যা নিরসনসহ বিদ্যালয়টিকে শিক্ষায়তনিক স্বীকৃতিসহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় নেওয়ার দাবি জানান তিনি ।
নলডাঙ্গা উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকতা ইদ্রিস আলী জানান, প্রতিবন্ধী শিশুরা সাধারণ শিশুদের সঙ্গে তাল মেলাতে না পারায় তারা ঝরে যাচ্ছে। ঝড়ে পরা রোধে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকাবাসীসহ অভিভাবকদের যথেষ্ট আগ্রহ রয়েছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে হলেও নানা সমস্যা রয়েছে স্কুলটিতে। সরকার প্রতিবন্ধীদের বিষয়ে যথেষ্ট আন্তরিক।  বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন এসব শিশুদের ঝড়ে পড়া রোধে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় সরকার প্রতিটি উপজেলায় একটি করে প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। উপজেলা সদর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এই স্কুলের অবস্থান। স্কুলটি নিয়ে ভাবা হচ্ছে।




আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft