জাতীয়
নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে চায় আওয়ামী লীগ
কাগজ ডেস্ক :
Published : Saturday, 18 March, 2017 at 4:13 PM
নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে চায় আওয়ামী লীগবিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে আগামী নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি ও সরকারের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা এলাকাগুলো কয়েকদফা চষে বেড়ানোর টার্গেট নিয়েছে। এসব জেলায় শেখ হাসিনা অন্তত একবার করে, আর দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা কয়েকদফা সফর করবেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা।
তারা জানিয়েছেন, এর মধ্য দিয়ে ওই সব এলাকায় সাংগঠনিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। শুধু তাই নয়,এই সফরের মাধ্যমে উন্নয়নে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোতে প্রয়োজনীয় উন্নয়ন ঘটাবে করবে ক্ষমতাসীনরা।ফলে জনপ্রিয়তা ঊর্ধ্বমুখী হবে বলে প্রত্যাশা করছেন দলের নেতারা। ইতোমধ্যে বিএনপি অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে সফর  শুরু করেছেন শেখ হাসিনা নিজেই। চলতি মাসেই বিএনপি অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত দুটি জেলা বগুড়া ও লক্ষ্মীপুর সফর করেছেন প্রধানমন্ত্রী।ওই দুটি জেলার জনগণের জন্যে উন্নয়নের উপহারও নিয়ে গেছেন তিনি।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, চলতি মাসে মাগুরা ও ফরিদপুর এবং আগামী মাসে আরও তিনটি জেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরমধ্যে রয়েছে বরগুনা, ঠাকুরগাঁও ও চুয়াডাঙ্গা জেলা। নির্বাচনের আগ পর্যন্ত মাসে অন্তত তিনটি-চারটি জেলা সফর ও জনসভা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভার পাশাপাশি এসব জেলায় কিছু উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন, আর নৌকার পক্ষে ভোট চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। এই পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে আগামী নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ তাদের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করতে চায়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ বলেন,‘আগামী নির্বাচন সবার অংশগ্রহণে হবে, আওয়ামী লীগ সেটাই বিশ্বাস করে। আমরা মনে করি, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্যদিয়ে আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে জনগণের সেবা করার সুযোগ পাবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন মাথায় রেখেই সাংগঠনিক কাজ শুরু করেছি।আগামী নির্বাচন পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে ।’
আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব এলাকা সফর করে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করা, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত যাতে তারা সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকেন সেই নির্দেশনা প্রদান করছেন। গত বছরের শুরুর দিকে কুড়িগ্রামে হত-দরিদ্রদের মাঝে ১০টাকা কেজি চাল বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তারপরই চলতি মাসে বগুড়া ও লক্ষ্মীপুরে জনসভা করার মধ্য দিয়ে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার নির্বাচনী সফর ও দলের সাংগঠনিক ভিত্তি মজবুত করার কার্যক্রম শুরু করেছেন। এই দুই জেলায় সফর করে জনসভা ছাড়াও বেশ কিছু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও কিছু প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এসেছেন তিনি। যাতে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষ উপকৃত হয়।
আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা জানান,শুধু প্রধানমন্ত্রী নন,বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের জন্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে যাতায়াত বেশি করবেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা একাজটিও শুরু করেছেন। নতুন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সপ্তাহে অন্তত দুদিন বিভিন্ন জেলা সফর করছেন। দলীয় সংসদ সদস্যরাও নিজ নিজ এলাকায় বেশি করে অবস্থান করছেন।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যতটা সহজ হয়েছে এবং যেভাবে সংসদ সদস্যরা বিজয়ী হয়ে এসেছেন, এবার তার কোনও সুযোগ নাই।আগামীতে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে, এমনটাই মনে করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা।
আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচনের আগে সারাদেশ সফর শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। বিশেষত যেসব এলাকায় সাংগঠনিক ভিত্তি কিছুটা দুর্বল, সেসব জেলাগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সফর করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘যেখানে-যেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, সেখানে তিনিও যাওয়া শুরু করেছেন। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত।’
জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন,  ‘নির্বাচনের আগে সারাদেশে অন্তত একবার সফর শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের।’ তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে সফর শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারাও শুরু করেছেন জেলা সফর।’



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft