জাতীয়
আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন
আসাদ আসাদুজ্জামান :
Published : Friday, 17 March, 2017 at 12:52 AM
আজ বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনহাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু  শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৮তম জন্মদিন আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার শেখ বাড়িতে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।
আজ সরকারি ছুটির দিন। এদিনটিকে সরকারিভাবে জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও উদযাপন করা হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সোমবার সকাল সাড়ে ৬ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন ও  দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৭ টায় বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে তার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।
এছাড়া রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল টুঙ্গিপাড়ায় শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ও দোয়া মাহফিলে অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়াও শিশু সমাবেশ, আলোচনা সভা, গ্রন্থমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
চার বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পিতা  শেখ লুৎফর রহমান ও মাতা সায়রা খাতুনের তৃতীয় সন্তান। ৭ বছর বয়সে তিনি পার্শ্ববর্তী গিমাডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পরবর্তীতে তিনি মাদারীপুর ইসলামিয়া হাইস্কুল,  গোপালগঞ্জ সরকারি পাইলট স্কুল ও পরে গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে লেখাপড়া করেন। ১৯৪২ সালে তিনি ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে উচ্চ শিক্ষার্থে কলকাতায় গিয়ে বিখ্যাত ইসলামিয়া কলেজে ভর্তি হন। ১৯৪৬ সালে তিনি বিএ পাশ করেন। শেখ মুজিবুর রহমান এই সময়ে ইসলামিয়া কলেজ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই সময়ে তিনি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবুল হাশিমের মতো নেতাদের সংস্পর্শে আসেন।  
১৯৪৬ সালে সা¤প্রদায়িক দাঙ্গায় শান্তি স্থাপনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সাহসী ভূমিকা পালন করেছিলেন। যা তাকে পরবর্তী জীবনে হিংসা, বিদ্বেষের বিরুদ্ধে অহিংস, অসহযোগ, অসাম্প্রদায়িক আন্দোলনের প্রতি আস্থাবান করে তুলেছিল।
বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এদেশের বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠীর শোষণ, নির্যাতন, নিপীড়নের বিরুদ্ধে তার প্রতিবাদী ভূমিকা এদেশের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। এদেশের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তিনি রেখেছেন যুগান্তকারী ভূমিকা। তিনি এদেশের মহান স্বাধীনতা অন্দোলনের প্রধান পথিকৃত। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ জাতিকে স্বাধীনতার দাবিতে উজ্জীবিত করে তোলে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরুর প্রথম প্রহরে তিনি পাক হানাদার বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পুরো সময় তাকে পকিস্তানের কারাগারে কাটাতে হয়।
স্বাধীনতা যুদ্ধে বিজয় লাভের পর পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তি লাভ করে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ ভূমিতে ফিরে এসে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি রাষ্ট্র পরিচালনায় আত্মনিয়োগ করেন।
সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতাকে ভিত্তি করে সংবিধান প্রণয়ন এবং  সে অনুযায়ী রাষ্ট্র চালনার চেষ্টা সত্ত্বেও যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে তীব্র দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সর্বব্যাপী অরাজকতা এবং সেই সাথে ব্যাপক দুর্নীতি মোকাবেলায় তিনি কঠিন সময় অতিবাহিত করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তারিখে একদল বিপথগামী সামরিক কর্মকর্তার হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন।



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft