স্বাস্থ্যকথা
আদালতের নির্দেশনা ভূলুণ্ঠিত, মুখে কুলুপ এটেছেন যশোরের ড্রাগ সুপার,
বিক্রি নিষিদ্ধ কোটি টাকার ওষুধ মজুদ
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Thursday, 16 March, 2017 at 12:39 AM
বিক্রি নিষিদ্ধ কোটি টাকার ওষুধ মজুদ দেশের ২৮টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপনন বন্ধে আদালতের নির্দেশনা আসলেও ওইসব প্রতিষ্ঠানের যশোরাঞ্চলের ডজনখানেক ডিপোতে প্রায় কোটি টাকার বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ মজুদ রয়েছে বলে তথ্য মিলেছে। এসব ডিপো থেকে প্রতিদিন গোপনে বাজার সয়লাব হচ্ছে ওইসব নিষিদ্ধ ওষুধে। শহরের বিভিন্ন ফার্মেসী, বঙ্গবাজার ও গ্রামাঞ্চলের ফার্মেসীতে জীবনের ঝুঁকি আশংকার এসব ওষুধ বিক্রি চলছে অবলিলায়। কখনো কম দামে, আবার কখনও আগের দামে বিক্রি হচ্ছে এসব ওষুধ। বিষয়টি জেনেও অজ্ঞাত কারণে নিরবতা পালন করছেন যশোরের ড্রাগ সুপার। তিনি মুখে কুলুপ এটে চলেছেন। বিক্রি নিষিদ্ধ ওষুধ মজুদ থাকা ও বিপনন হওয়ায় ড্রাগ সুপারের স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে ২৮টি ওষুধ কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপনন বন্ধের আবেদন করা হয়। এরপর আদালত তিন দিনের মধ্যে ওইসব কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপনন বন্ধের জন্য সময় বেধে দেয়। আর এ নির্দেশনা স্বাস্থ্যসচিব, শিল্পসচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, পুলিশের মহা পরিদশক ও র‌্যাব মহা পরিচালককেও জানানো হয়। আর ওষুধ প্রশাসন থেকে এই নির্দেশনা জেলা পর্যায়ের ড্রাগ সুপারের কাছেও পাঠানো হয়। একটি স্বারকে এই নির্দেশনা পত্র যশোর ড্রাগ সুপারের কার্যালয়েও আসে। কিন্তু যশোরে অ্যান্টিবায়োটিক, স্টেরয়েড ও ক্যান্সার প্রতিরোধক ওষুধের উৎপাদন ও বিপনন বন্ধের নির্দেশনা আসা কোম্পানি অ্যামিকো ফার্মা, অ্যাজটেক, বেঙ্গল টেকনো, বেনহাম ফার্মা, সেন্ট্রাল ফার্মা, ডিসেন্ট ফার্মা, ডক্টরস টিমস, গ্লোবেক্স, গ্রিনল্যান্ড, ইনোভা, ম্যাক্স ড্রাগ্স, ম্যাডিমেট ল্যাব্রোটরিজ, মডার্ন ফার্মা, মিস্টিক ফার্মা, ন্যাশনাল ল্যাব্রেটরিজ, অর্গানিক হেল্থকেয়ার, ওয়েস্টার্ন ফার্মা, প্রিমিয়ার ফার্মাসিটিক্যাল্স, প্রাইম ফার্মা, সিমা র্ফামা, হোয়াইট হর্স, মমতাজ ফার্মা, ইউনিক ফার্মাসিটি, ইউনাইটেড ক্যামিক্যাল্স এন্ড র্ফামা, এফ এন এফ ফার্মা, টেকনোড্রাগ্স লিমিটেডের ওষুধ অবাধে বিক্রি হচ্ছে। এদের মধ্যে ডজনখানেক কোম্পানি ডিপোতে এখনও প্রায় কোটি টাকার ওষুদ মজুদ রয়েছে বলে তথ্য এসেছে। এর মধ্যে বেনহাম ফার্মার  পুলিশ লাইনের ডিপোতে, অ্যামিকোর ঢাকা রোডের ডিপোতে, অর্গানিকের বড় বাজারের ডিপোতে, রিসেন্টের বারান্দি মোল্লাপাড়ার ডিপোতে, মেডিমেটের হাইকোর্ট মোড়ের ডিপোতে, টেকনোর ঘোপ সেন্ট্রালরোডের ডিপোতে, ডক্টরস টিমের কাজীপাড়ার ডিপোতে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টিবায়োটিক মজুদ রয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়া আরও কয়েকটি কোম্পানির ডিপো মিলিয়ে প্রায় কোটি টাকার ওষুধ মজুদ রয়েছে। এসব কোম্পানির এরিয়া ম্যানেজার ও ডিপো ইনচার্জ সুকৌশলে কোম্পানির ঢাকার কর্মকর্তাদের সাথে লিয়াজো করে বাজারজাত করে চলেছেন এসব নিষিদ্ধ ওষুধ। তারা যশোরের কয়েকটি বাজার ও গ্রামাঞ্চলে এ ওষুধ বিক্রি করে চলেছেন।
সূত্র জানায়, এসব কোম্পানির অ্যান্টিবায়োটিক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা “গুড ম্যানুফ্যাকচারিং প্রাকটিস” না মেনে উৎপাদন হচ্ছিল। আর তা ছিল জীবনের ঝুঁকি স্বরূপ। এসব বিষয়ে যুক্তি ও বিচার বিশ্লেষন করে আদালত উৎপাদন ও বিপনন বন্ধের জন্য রায় দিলেও এটা যশোরে কার্যকর হয়নি। যশোরের ড্রাগ সুপার আন্তরিক না হওয়ায় এ বিপনন চলছেই। ড্রাগ সুপার ওইসব ওষুধ কোম্পানির ডিপোগুলোতে উঁকিও মারেননি। তিনি যেন মুখে কুলুপ এটেছেন।  
এ ব্যাপারে যশোরের ড্রাগ সুপার রেহান আহমেদের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওইসব কোম্পানির ডিপো প্রধানদের তিনি মৌখিকভাবে বলেছেন ওষুধ সরিয়ে নিতে। এ ব্যাপারে তিনি নোটিশ করার চিন্তা করছেন। তবে ওষুধ মজুদ করা ও বাজারজাত করার যে অভিযোগ এসেছে তাতে তিনি জরুরি ব্যবস্থা নেবেন। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে আদালত দেশের ২০টি কোম্পানির সব ধরনের ওষুধ ও ১৪টি কোম্পানির সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক উৎপাদনও বন্ধ ঘোষণার রায় দেয়। মানসম্মত ওষুধ উৎপন্ন না করায় এ সব কোম্পানির লাইসেন্সও বাতিল করে দেন হাইকোর্ট। উৎপাদন বাতিল হওয়া আগের ২০টি ওষুধ কোম্পানি হলো এক্সিম ফার্মাসিউটিক্যাল, এভার্ট ফার্মা, বিকল্প ফার্মাসিউটিক্যাল, ডলফিন ফার্মাসিউটিক্যাল, ড্রাগল্যান্ড, গ্লোব ল্যাবরেটরিজ, জলপা ল্যাবরেটরিজ, কাফমা ফার্মাসিউটিক্যাল, মেডিকো ফার্মাসিউটিক্যাল, ন্যাশনাল ড্রাগ, নর্থ বেঙ্গল ফার্মাসিউটিক্যাল, রিমো কেমিক্যাল, রিদ ফার্মাসিউটিক্যাল, স্কাইল্যাব ফার্মাসিউটিক্যাল, স্পার্ক ফার্মাসিউটিক্যাল, স্টার ফার্মাসিউটিক্যাল, সুনিপুণ ফার্মাসিউটিক্যাল, টুডে ফার্মাসিউটিক্যাল, ট্রপিক্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল এবং ইউনিভার্সেল ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।
এর আগে অ্যান্টিবায়েটিক ওষুধ উৎপাদনের অনুমতি বাতিল করা ১৪টি কোম্পানি হলো- আদ-দ্বীন ফার্মাসিউটিক্যাল, আলকাদ ল্যাবরেটরিজ, বেলসেন ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল ড্রাগস, ব্রিস্টল ফার্মা, ক্রিস্ট্যাল ফার্মাসিউটিক্যাল, ইন্দো-বাংলা ফার্মাসিউটিক্যাল, মিল্লাত ফার্মাসিউটিক্যাল, এমএসটি ফার্মা, অরবিট ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার্মিক ল্যাবরেটরিজ, পনিক্স কেমিক্যাল, রাসা ফার্মাসিউটিক্যাল এবং সেভ ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft