দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
যশোরে এসপির বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন
ছয় ঘন্টা পর আটক হলেন রাইটস পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক
কাগজ সংবাদ :
Published : Tuesday, 14 March, 2017 at 12:15 AM
ছয় ঘন্টা পর আটক হলেন রাইটস পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলনের ছয় ঘন্টার পর আটক হলেন প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক। সংবাদ সম্মেলনের সময়ই তিনি বলেছিলেন পুলিশি নজরদারিতে আছেন, যে কোন সময় আটক হতে পারেন। তার আটকের সংবাদে নিন্দার ঝড় উঠেছে সাংবাদিক মহলে। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক ভাবে প্রেসক্লাব যশোরে জরুরি সভায় মিলিত হন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, সাবেক সভাপতি ফকির শওকত, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বোরহান উদ্দিন জাকির, গ্রামের কাগজের সম্পাদক ও প্রকাশক মবিনুল ইসলাম মবিন প্রমুখ।
দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অযোগ্যতাসহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে ১৩ মার্চ দুপুরে সংবাদ সম্মেলনের পর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় আটক করা হয় তাকে। শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসভবনে ঢুকে পড়ে প্রায় ১৫ জনের একটি দল। তারা বিনয় মল্লিককে অস্ত্রের মুখে তুলে নিচে অপেক্ষমান মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয়।
এদিন দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আহুত সংবাদ সম্মেলনে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক অভিযোগ করেন শহরের গাড়িখানা এলাকায় সরকারি বন্দোবস্ত জমি জোরপূর্বক পুলিশ দখল করে নিয়েছে। পুলিশ সুপারের অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় মানবাধিকার কর্মী বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক ও তার পরিবারের সদস্যদের একের পর এক মিথ্যা মামলা ও কাল্পনিক অভিযোগে হয়রানি করা হচ্ছে। সর্বশেষ গত ৯ মার্চ ছেলে সবুজ মল্লিককে যশোর শহরের গাড়িখানা এলাকা থেকে সাদা পোশাকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। পরে খুলনার ফুলতলা থানা পুলিশ সাজানো মামলায় ৫০ বোতল ফেনসিডিল দিয়ে আদালতে সোপর্দ করেছে। পুলিশ সুপারের এ অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকায় ধারাবাহিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অবিলম্বে পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানকে বরখাস্ত করে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক।
৯ মার্চ ন্যাশনাল ব্যাংকের সামনে থেকে সাদা পোষাকধারী কয়েক ব্যক্তি তার ছেলে সবুজকে মাথা ও মুখে গামছা পেচিয়ে জোরপূর্বক সাদা মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নেয় । এ সময় ওই ব্যক্তিরা তার পকেটে থাকা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের ২ লাখ টাকা লুট করে।
সংবাদ সম্মেলনে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক আরও বলেন, যশোর শহরের গাড়িখানা রোডের সরকারি এপি ২০/৭২ বরাদ্দকৃত খাস জমি বন্দোবস্ত নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করতে থাকা পরিবার ও ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে পুলিশের নামে দখলদারিত্ব কায়েম করেছেন যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান। একজন মানবাধিকার কর্মী হিসেবে তিনি পুলিশ সুপারের এই বেআইনী ভূমিকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট হন। সে কারণে পুলিশ সুপার তার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি একের পর এক সরকারের নানা দপ্তরে কাল্পনিক ও মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে অভিযোগ দায়ের করে চলেছেন। যা একের পর এক ভুল প্রমাণিত হচ্ছে। এ কারণে পুলিশ সুপার তাকে ‘শায়েস্তা’ করার জন্য নানা অনৈতিকতার আশ্রয় নিচ্ছেন। যার শিকার তার পরিবার ও সংস্থা রাইটস যশোর। তিনি সংবাদ সম্মেলনে আবেগ তাড়িত কণ্ঠে বলেন, এসপির বিরুদ্ধে মুখ খোলায় তাকে আরো বড় ধরনের খেশারত দিতে হতে পারে। প্রেসক্লাব থেকে বের হলেও তাকে আটক এমনকি হত্যা করতে পারে এই পুলিশ সুপার।
তিনি বলেন এর আগেও তাকে ‘শায়েস্তা’ করার জন্য পুলিশ সুপারের নির্দেশে যশোর পুলিশ ছেলে সবুজ মল্লিকের নামে ট্রাফিক পুলিশ ফাঁড়িতে বোমা বিস্ফোরণ ও প্রতারণার ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করে। সাজানো এই মামলায় পুলিশ আগেও সবুজকে আটক করেছিল। একই সঙ্গে কোন প্রকার নোটিশ ছাড়াই তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল। ওই প্রতিষ্ঠানটি ছিল জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে বারদ্দ পাওয়া জমিতে। পরবর্তীতে পুলিশ প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি দখল করে নেয়। সেই সময়ও সবুজ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক বলেন, পুলিশের সব সদস্য খারাপ নয়। অনেক ভাল অফিসার আছে। কিন্তু যশোরের পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানেরর মত আইন অমান্যকারী পুলিশ সুপারকে বরখাস্ত না করলে পুলিশের বদনাম হবে। আইন লংঘনকারী পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের কবল থেকে তার পরিবারকে বাঁচানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
আবেগ আপ্লুতকণ্ঠে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন থেকে বের হওয়ার ছয় ঘন্টা পরেই ঘোপ এলাকা থেকে পত্রিকা দপ্তরে  খবর আসে। একটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বাড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে গেছে। এক প্রকার টানাহেঁচড়া করতে করতে তাকে ওই আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের পিকআপভ্যানে তোলে বলে প্রত্যক্ষ দর্শীরা জানান।
বিনয়কৃষ্ণ মল্লিকের ছেলে শ্যামল মল্লিক জানান, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে একটি পুলিশ দল তাদের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের বাসভবনে যায়। তাদের মধ্যে দু’জন ছিলেন পুলিশের পোশাকধারী। অন্যরা সাদা পোশাকে। তারা বাবাকে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন। বাবা এসময় পোশাক পরতে চাইলেও তারা সময় দেয়নি। গালিগালাজ করতে করতে কলার ধরে টেনে হিঁচড়ে বাবাকে দোতলা থেকে নামিয়ে অপেক্ষমাণ একটি মাইক্রোবাসে উঠিয়ে নিয়ে যায়'। ঘটনার কিছু সময় পর জানতে চাইলে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শহীদ আবু সরোয়ার জানান, 'আমি আশ্রম রোডে রয়েছি পুলিশের কাবাডি খেলায়। বিনয় মল্লিককে আটক করা হয়েছে কি-না তা আমার জানা নেই।'
ক সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম নাইমুর রহমানও এ বিষয়ে তার কিছু জানা নেই বলে জানান। কোতোয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন পিপিএম এবং ডিবির ওসি ইমাউল হকও বিনয়কৃষ্ণ মল্লিককে আটকের বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
ওসি ইমাউল বলেন, 'ডিবি কখনো সাদা পোশাকে অভিযান চালায় না।'
বিনয়কৃষ্ণ মল্লিকের ছোট ভাই নির্মল মল্লিক বলেন, 'আমার ভাইকে অস্ত্রধারী পুলিশই নিয়ে গেছে।'
পরে রাত পৌনে ৯টার দিকে কোতয়ালী থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, 'বিনয়কৃষ্ণ মল্লিককে নরসিংদীর একটি মামলায় আটক করা হয়েছে। তাকে এখনও থানায় আনা হয়নি। পুলিশের আভিযানিক দলের সঙ্গে রয়েছেন বিনয় মল্লিক।'
এদিকে বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক আটক হওয়ার পর বক্তব্য চাউর হতে থাকে তাহলে সংবাদ সম্মেলন করা আশংকাই সত্যি হল, তিনি আটক হলেন। আর আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে যশোরের সাংবাদিক সমাজ ফুঁসে ওঠে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ প্রেসক্লাবে অবস্থান করছিলেন। বিনয় মল্লিককে ছেড়ে দেয়া না হলে দূর্বার আন্দোলনের ঘোষণা আসছে বলেও জানান সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।



আরও খবর
সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft