স্বাস্থ্যকথা
কষ্টদায়ক যৌনব্যাধি নারী-পুরুষের
কাগজ ডেস্ক :
Published : Wednesday, 8 March, 2017 at 6:43 PM
কষ্টদায়ক যৌনব্যাধি নারী-পুরুষের গনোরিয়া একটি সাধারণ এবং পরিচিত যৌন সংক্রামক রোগ। আমাদের গ্রাম-গঞ্জে এটি আবার প্রমেহ নামেও পরিচিত। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি জীবাণুবাহিত রোগ। 'নাইসেরিয়া গনোরিয়া' নামক ব্যাকটেরিয়া এই রোগের বিস্তার ঘটিয়ে থাকে। তবে চুম্বন, হাত ধরা ইত্যাদি থেকে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করে না। কিন্তু যোনি বা পায়ুপথে মিলন বা সঙ্গম বা ওরাল সেক্স বা মুখমেহন ইত্যাদির মাধ্যমে গনোরিয়া বিস্তার লাভ করতে পারে।
এটা পেনিস বা পুরুষাঙ্গ, সারভিক্স বা জরায়ুর ছিদ্র, রেকটাম মলাশয় বা পায়ু, গলা ও চোখকে আক্রান্ত করতে পারে। এই ইনফেকশনজনিত কারণে বন্ধ্যা হয়ে যাওয়া মোটেও অস্বাভাবিক না যাতে কিনা গর্ভধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। গর্ভবতী মহিলারা যারা গনোরিয়া আক্রান্ত তাদের প্রসবজনিত সন্তানও সংক্রমিত হয়ে পড়তে পারে এই ইনফেকশনের কারণে।
আমাদের সমাজে দেখা যায়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষরাই এই যৌনরোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন এবং তাদের বয়স ১৫ থেকে ৩০-এর মধ্যে। গনোরিয়ার জীবাণু 'নাইসেরিয়া গনোরিয়া' দীর্ঘদিন শরীরের বাইরে টিকে থাকতে পারে না। এরা বেঁচে থাকে কেবল নিবিড় যৌন সংসর্গের মাধ্যমে এক দেহ থেকে অন্য দেহে স্থানান্তরিত হয়ে। গনোরিয়া সংক্রমণ অর্জিত হয় সংক্রমিত লোকের সঙ্গে যৌন সংসর্গের দ্বারা।
পুরুষের ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ
* যৌন মিলনের ২ থেকে ১০ দিন পর রোগের উপসর্গ দেখা দেয়।
* পুরুষদের মূত্রনালির সম্মুখভাগে সাধারণত সংক্রমণ ঘটে।
* বারবার প্র¯্রাবের ইচ্ছা করে। মূত্রনালিতে প্রদাহের কারণে জ¦ালাপোড়া ও ব্যথা করে।
* লিঙ্গপথে রস নিঃসৃত হয়। যৌনাঙ্গের সংক্রমণের ফলে এ রস তৈরি হয়। প্রথমে পানির মতো থাকে। পরে ঘন, সবুজাভ-হলুদ হয়।
* মূত্রনালি পথে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়ে প্র¯্রাব ঠিকমতো বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে কিডনিতে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে।
* অন্ডকোষ ফুলে একটা আপেলের মতো বড় হতে পারে।
* এপিডিডাইমিসে প্রদাহের কারণে তীব্র ব্যথা হয়।
* সমকামিরা পায়ুপথে যৌনসঙ্গম করলে পায়ুপথে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালিতে তীব্র ব্যথা হয় এবং রসে ভিজে যায়।
* মুখ মৈথুনে অভ্যস্তদের মুখে সংক্রমণ তথা ঘা সৃষ্টি হয় এবং গলাব্যথা হয়।
* দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিন্ডের ক্ষতি হতে পারে।
নারীর ক্ষেত্রে গনোরিয়ার উপসর্গ
* যোনিপথে অস্বাভাবিক নিঃসরণ (সচরাচর, সাদা, সবুজ কিংবা হলুদ) হয়।
* যৌনাঙ্গ সংক্রমণের কারণে যোনির ওষ্ঠে লাল, দগদগে ঘা হয়।
* প্র¯্রাবের তীব্র ইচ্ছা থাকতে পারে। প্র¯্রাবে যন্ত্রণা হয়।
* ডিম্ববাহী নালিতে প্রদাহ হয়।
* বার্থোলিন গ্রন্থির প্রদাহ হয়।
* তলপেটে ব্যথা হয়।
* ডিম্ববাহী নালি, ডিম্বাশ্বয় কিংবা তলপেটের মধ্যে ফোঁড়া হতে পারে।
* মাসিক অনিয়মিত হয় এবং তীব্র ব্যথা হয়।
* পায়ুপথে সঙ্গম থেকে কিংবা নিজের সংক্রমিত যোনি থেকে মলদ্বারে সংক্রমণ হতে পারে। মলনালি পথে নিঃসরণ এবং রক্তক্ষরণ হতে পারে।
* মুখ মৈথুনের কারণে মুখে সংক্রমণ হতে পারে।
* দীর্ঘদিনের সংক্রমণের কারণে অস্থিসন্ধিতে প্রদাহ, ত্বকে ক্ষত, সেপটিসেমিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ এবং হৃৎপিন্ডের ক্ষতি হতে পারে।
গনোরিয়া এবং গর্ভাবস্থা
গনোরিয়ার জীবাণু মহিলার জননতন্ত্রের মধ্যে বিচরণ করে ডিম্ববাহী নালিতে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করতে পারে এবং এ কারণে মহিলার সারাজীবনের জন্য বন্ধ্যত্ব ঘটতে পারে কিংবা জরায়ুর বাইরে গর্ভধারণ হতে পারে। গর্ভাবস্থায় মহিলা গনোরিয়ায় আক্রান্ত হলে শিশু জন্মের সময়ে মায়ের যোনি থেকে তার চোখে সংক্রমণ হতে পারে। শিশুকে চিকিৎসা না করলে তার চোখে প্রদাহ হবে এবং সে অন্ধ হয়ে যেতে পারে।
রোগ নির্ণয়
এ ক্ষেত্রে রোগীর বিস্তারিত ইতিহাস শুনতে হবে। সে এরই মধ্যে কোনো যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছিল কিনা প্রশ্ন করে ভালো করে উত্তর পেতে হবে। সম্পর্ক থাকলে তা কতদিন আগে এবং কতজনের সঙ্গে। এসব জেনে নিতে হবে। তারপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। যদি স্বল্পস্থায়ী আক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে পুরুষের ক্ষেত্রে প্র¯্রাবের রাস্তা থেকে নিঃসরিত পুঁজ বা পদার্থ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে মূত্রনালি ও জরায়ু নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি হলে প্রস্টেটগ্রন্থি ম্যাসাজের পর নিঃসরিত পদার্থ পরীক্ষা করতে হবে কিংবা সকালের প্রথম ফোঁটা প্র¯্রাবও পরীক্ষা করা যেতে পারে। মহিলাদের ক্ষেত্রে জরায়ু নিঃসরিত বস্তু পরীক্ষা করতে হবে। এ ছাড়া কালচার ও সেনসিটিভিটি পরীক্ষা করা যেতে পারে।
প্রতিকার কীভাবে করা যেতে পারেথ
* জনসাধারণকে যৌনরোগের কুফল সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।
* সঠিক বয়সে উপযুক্ত যৌনশিক্ষা প্রচলন।
* বহুনারী গমনে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ বেশির ভাগ মহিলারই এ রোগের কোনো লক্ষণ থাকে না। তাই যে কোনো সময়ে এদের দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
* রোগের লক্ষণ দেখামাত্রই চিকিৎসা করানো উচিত।
* আক্রান্ত অবস্থায় স্ত্রী মিলনের বা স্বামী সহবাসে বিরত থাকা উচিত, তা না হলে তারাও আক্রান্ত হতে পারে।
* সর্বোপরি বিবাহিত যৌনজীবন সবার জন্য বিভিন্ন যৌনরোগ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার একমাত্র পথ।
কিছু সতর্কতা জরুরি
অল্পবয়স্ক মেয়ে এবং শিশুরা এ রোগ অর্জন করতে পারে সংক্রমিত বিছানার চাদর অথবা তোয়ালে থেকে। ঘনবসতি এবং অপরিচ্ছন্নতা থেকে শিশুদের গনোরিয়া হতে পারে। একজন ব্যক্তি গনোরিয়া থেকে মুক্তি পেলেও আবার গনোরিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে যদি সেখানে অল্প সংক্রমণ থেকে যায় কিংবা গনোরিয়ায় আক্রান্ত কারও সঙ্গে যৌন মিলন ঘটে অথবা কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা না থাকে। তবে গনোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা কেউ লাভ করতে পারে না।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft