স্বাস্থ্যকথা
কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
কাগজ ডেস্ক :
Published : Friday, 17 February, 2017 at 6:23 PM
কৃষিক্ষেত্রে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকিসদ্য অতিক্রান্ত শীত মৌসুমে বাজারে পাওয়া গেছে নানা জতের সবজি, যেগুলোর বেশিরভাগই অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার করে উৎপাদিত হয়েছে। পরিষ্কার ঝকঝকে এসব সবজি একটুও পোকায় খাওয়া নয় এবং দেখতেও টাটকা। কিন্তু এ সবজি খেয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। দিনে দিনে মানুষের শরীরে জমা হচ্ছে বিষ, যার প্রতিক্রিয়ায় মেজাজ তিরিক্ষি হয়ে যাচ্ছে। হৃৎপি-, পাকস্থলীসহ শরীরের নানা অংশে বিবিধ রোগ দেখা দিচ্ছে। সবজিতে পোকা থাকলে কেউ পছন্দ করে না। আবার উৎপাদনও ভালো হয় না। বেশি উৎপাদন ও যথাযথ মূল্য পাওয়ার আশায় উৎপাদনকারী সবজিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন। মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে জানা যায়, শুধু শীতকালে নয় নানা ধরনের ফসলে সারাবছরই কীটনাশক ব্যবহার করা হয়। তবে সবজিতে কীটনাশকের ব্যবহার অনেক বেশি। কৃষকরা বলছে, কোনো কোনো সবজিতে এক দিন পরপর কীটনাশক দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এ বিষ সক্রিয় থাকে সাত থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত। উৎপাদনকারীরা সবজির উজ্জ্বলতা ও চমৎকার দেখানোর জন্যে কীটনাশক ব্যবহার করার দিন বা পরের দিনই ওই সবজি বিক্রি করে। সাধারণত দুই থেকে চার হাত বদল হয়ে দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে খুচরা বাজার হয়ে ভোক্তার কাছে পৌঁছায়। কীটনাশক কীটপতঙ্গ মেরে ফেলে। তবে এর উপাদান সবজিতে মিশে যায়। এ কারণে কীটনাশক ব্যবহার করার এক বা দুই দিনের মধ্যে সংগ্রহ করা সবজিতে সেই বিষ থেকে যায়, যা রান্নার তাপেও বিনষ্ট হয় না। আর কীটনাশকের প্রতিক্রিয়ায় মাটি ও পানিতে থাকা অনেক উপকারী অনুজীবও মারা যায়। কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রতিক্রিয়ায় আমরা প্রাকৃতিক লাঙ্গল হিসেবে পরিচিত কেঁচো হারিয়ে গেছে। উপরন্তু খাদ্য-শৃঙ্খলে এক ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে; জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে বাংলাদেশে যেসব সবজির আবাদ হয় তাতে কীটনাশক ব্যবহার না করলে ভালো ফলন পাওয়া যায় না। কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, দেশে সবজি উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে পাবনার চলনবিল অঞ্চল। দেশের সবজি চাহিদার প্রায় ২৫ ভাগ সবজির জোগান আসে এই অঞ্চলের উৎপাদিত সবজি থেকে। চলনবিলের চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, সিংড়া, গুরুদাসপুর, রায়গঞ্জ এই ৯টি উপজেলায় উৎপাদন হয় ২৫ রকমের সবজি। আবহাওয়া ও মাটি সবজি চাষের উপযোগী হওয়ায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবছরেই এ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সবজি চাষ। কিন্তু কৃষকরা ভালো ফলনের আশায় এবং পোকা-মাকড় থেকে রক্ষা পেতে সবজি চাষে ব্যবহার করছেন অতিরিক্ত কীটনাশক। বিশেষ করে শীতকালীন সবজি শিম, বেগুন ও কপি চাষে ব্যবহার করা হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক। সেখানকার সবজিচাষিদের মতে, বছরের অন্যান্য সময়ের তুলনায় শীত মৌসুমে সবজি চাষে কীটনাশক ব্যবহার বেড়ে যায় দ্বিগুণ। এ সময় কৃষকরা মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ করেন ক্ষেত থেকে ভালো সবজি উৎপাদনের জন্য। সবজিতে কীটনাশকের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে গ্যাস্ট্রোএনট্র্রোলজিস্ট ডা. দীপঙ্কর নাগের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবজিতে ব্যবহৃত কীটনাশক বা বিষ খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। কারণ সব কীটনাশকের ক্রিয়া রান্নার তাপে যায় না। ফলে ওই বিষ মানব শরীরে নানা প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। সাধারণভাবে এখনকার অনেক রোগই এসব বিষের প্রতিক্রিয়ায় হয়ে থাকে। যেমন ক্যান্সার, হৃৎপি-, পরিপাকতন্ত্র প্রভৃতির সমস্যা এই বিষের প্রতিক্রিয়ায় বাড়ছে। 



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft