দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
এহসান এস বাংলাদেশের দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনা আজও অমিমাংসিত
দেওয়ান মোর্শেদ আলম :
Published : Friday, 17 February, 2017 at 12:21 AM
এহসান এস বাংলাদেশের দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনা আজও অমিমাংসিত এহসান এস বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ওঠা পাবলিকের দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনাটি এখনও অমিমাংসিত রয়েছে। মামলা-পাল্টা মামলা, সংবাদ সম্মেলন, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে কেটে গেছে দু’বছরেরও বেশি সময়।
মধ্যসত্ত্বভোগীদের মধ্যে অনেকে নিজেদের অংশ আদায় করতে ব্যস্ত ছিল। আর সময় গুনেছে মাঠ পর্যায়ের গ্রাহক ও লগ্নিকারীরা। হতাশা আর উৎকণ্ঠা তাদের নিত্যদিনের সাথী হয়েছে। ঘটনার অন্যতম নায়ক কোম্পানির এমডি নামধারী জুনায়েদ আলী, ম্যানেজার নামধারী আতাউল্লাহসহ চক্রের সাঙ্গপাঙ্গরা এখনও গা ঢাকা দিয়ে আছে।
২০১২ সালে বিশাল অফিস ও জনবল নিয়ে কয়েকটি শাখা খুলে যশোরাঞ্চলে পাঁচ সহস্রাধিক গ্রাহক ও লগ্নিকারী তৈরী করে এহসান এস বাংলাদেশ। এরপর ২০১৪ সাল অক্টোবরে ওইসব গ্রাহক লগ্নিকারীদের পথে বসিয়ে তালবাহানা শুরু হয়। এহসান ইসলামী মাল্টিপারপাস কোঅপারেটিভ সোসাইটি এবং এহসান ইসলামী রিয়েল এস্টেট লিমিটেডের প্রতারকেরা প্রায় দু’হাজার কোটি টাকা পকেটস্থ করে বলে তথ্য মেলে। এ অঞ্চলের মানুষকে মোটা অংকের মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে দু’হাজার ৪শ’ কোটি ৭০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিলেও তাদের ব্যাংক একাউন্ট ছিল শূণ্যের কোঠায়। যদিও তাদের ৫ শ’ কোটি টাকার স্থিতি সম্পদ ছিল বলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তথ্য পায়। সে হিসেবে আত্মসাতের পরিমান দাড়ায় দু’হাজার কোটি টাকার মত। ওই সম্পদ বিক্রি করে একে একে টাকা শোধ করে দেয়ার কথা চাউর করা হয়। মধ্যসত্বভোগীদের কেউ কেউ গোপন আঁতাত করে কিছু টাকা হাতিয়ে তৃণমূল গ্রাহকদের আন্দোলনকে থামিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। ক্ষতিগ্রস্তরা ওই টাকা আদায় করাসহ এহসান এস এর বিরুদ্ধে সক্রিয়ভাবে দাড়ানোর আহবান জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন মানববন্ধনসহ ঢাকা চল কর্মসূচিও পালন করে। এভাবে কেটে যায় বছর খানেক। থানায় একে একে ডজনখানেক মামলা হয়ে যায়। কয়েক কর্মকর্তা আটকও হয়। এরপর শুরু হয় মামলা-পাল্টা মামলা, পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আত্মসাৎকারী চক্র। এক পর্যায়ে ওই প্রতিষ্ঠানের এমডি পর্যায়ের পাঁচ জন মোবাইল বন্ধ রেখে টাকা আজ দেব কাল দেব বলে তালবাহানা করে নানা বিপাকে ফেলেন লগ্নিকারীদের।
মূলত এহসান এস বাংলাদেশ, এহসান রিয়েল এস্টট এবং এহসান মাল্টিপারপাস বছর চারেক আগে যশোর শহরের চৌরাস্থা মোড়ে অফিস খুলে কার্যক্রম শুরু করে। শরিয়া মতে ব্যবসা করে মাসে এক লাখে ১৬শ’ টাকা মুনাফার প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা জমা নিতে থাকে। এ কাজে প্রত্যেক এলাকার মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে প্রচারণা চালায়। সংস্থাটি প্রথম ক’মাস লভ্যাংশের টাকা দিলেও পরবর্তীতে না দিয়ে গ্রাহকের ও লগ্নিকারীদের হুমকি ধামকি দেয়া শুরু করলে গোটা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের মাধ্যমে শরিয়া মতে ব্যবসার কথা বলে এবং ইহকাল পরকালের কথা বলে সাধারণ মানুষকে তাদের ব্যবসায় জড়িত হতে উদ্বুদ্ধ করে। সাধারণ মানুষ সরল বিশ্বাসে তাদের গচ্ছিত কাড়ি কাড়ি টাকা ব্যবসায় লগ্নি করেন। কিন্তু তারা প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী লভ্যাংশ ও বিনিয়োগের টাকা ফেরত না দিয়ে শেষমেশ অফিস গুটিয়ে ফেলে। ঢাকায় আত্মগোপনে যায় কোম্পানির এমডি নামধারী জুনায়েদ আলী, ম্যানেজার নামধারী আতাউল্লাহসহ চক্রের সাঙ্গপাঙ্গরা। এব্যাপারে যশোরের ওই সময়কার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) ফয়েজ আহমেদ মাঠে নামেন। এহসান এস-এর কয়েকটি অফিসে অভিযান চালালেও সেগুলোতে তালা বন্ধ পান। আর পথে পথে ঘুরতে থাকে দু’হাজার কোটি টাকা খোয়ানো এ অঞ্চলের মানুষ। তারা এখনও ঘুরছেন। মামলা গুলোও চলছে ধীরগতিতে। আবার মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত পাওনাদারদের বিরুদ্ধেও কয়েকটি মামলা দেয়া হয়েছে। তাই এখনও অমিমাংসিত রয়েছে।
ওই দু’হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ ঘটনায় সমবায় অফিসার দ্বীপক কুমার রায় জানিয়েছেন, ওই প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন যশোরে হয়নি। কাজেই ওই ব্যাপারে তদের এখতিয়ার নেই। এরপরও গ্রাহকদের সাথে আছে তারা। আইনী সহায়তা দিতে তিনি ও তার অফিস প্রস্তুত রয়েছে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft