দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
চৌগাছার ১০৯ বছরের বিলু বিবি জীবন সাহাহ্নে কপালে জুটলোনা বয়স্ক ভাতা
শাহানুর আলম উজ্জ্বল/খলিলুর রহমান জুয়েল, চৌগাছা (যশোর) থেকে :
Published : Thursday, 2 February, 2017 at 12:32 AM, Update: 02.02.2017 12:42:13 PM
চৌগাছার ১০৯ বছরের বিলু বিবি জীবন সাহাহ্নে কপালে জুটলোনা বয়স্ক ভাতাযশোরের চৌগাছার নিভৃত পল্লীর বিলু বিবির বয়স এখন ১০৯ বছর। দেশ স্বাধীনের মাত্র ১৫ বছরের মাথায় স্বামী চকম আলী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। অভাব আর দারিদ্রতার মধ্যে তিন সন্তানকে নিয়ে জীবন সংগ্রামের লড়াই করেছেন। কিন্তু শেষ বয়সে যেন আর পেরে  উঠছেন না তিনি। বয়স্ক ভাতার জন্য দ্বারেদ্বারে ঘুরেও তার ভাগ্যে জোটেনি সেই সরকারি ভাতা। অথচ সংশ্লিষ্ঠ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত আসনের মেম্বর মৃত দুই ব্যক্তির বয়স্ক ভাতা তুলে হজম করে ফেলেছেন বলে অভিযোগ। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসি।
সূত্র জানায়, উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী উন্নয়ন বিমূখ নিভৃত নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্বামী হারা তিন সন্তানের জননী বিলু বিবির। দারিদ্রতার নির্মম কষাঘাতে জর্জারিত অবস্থায় তিনি রেজাউল ইসলাম, আতিয়ার রহমান ও মেয়ে সামাত্ব ভানকে বড় করেছেন। মেয়ে শশুর বাড়িতে অতি কষ্টে জীবন যাপন করছেন। এছাড়া দুই ছেলে বর্তমানে দিন মজুরী করে সংসার চালান। এ অবস্থায় বিলু বিবির ডান পা পড়ে যেয়ে ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে তিনি দিন মজুর বড় ছেলের সংসারে চরম অসুস্থতার মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। মমতাময়ী মাকে চিকিৎসার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। তারপরও টাকার অভাবে দিন আনা দিন খাওয়া সংসার ঠেলে পুরোপুরি চিকিৎসা করা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। পরিবারের লোকজন অভিযোগ করেন আমরা অনেক কষ্টে আছি। তারপরও মায়ের বয়স ১০৯ বছর হলেও সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা পায়নি। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ১৯০৮ সালের ১০ জুলাই। পরিচয়পত্রের আইডি নং-৪১১১১৪৩৯৮৬১৮৮। বুধবার দুপুরে সরেজমিন এই পরিবারে গেলে দেখা যায় বিলু বিবি ঘরের মেঝেতে বসে আছেন। সামনে গিয়ে দাড়ালে তিনি পরিচয় জেনে কেঁদে উঠেন। বিলু বিবির স্বজনরা জানান, তিনি এই বয়সে কখনও কোন সময়ে সরকারী সুযোগ সুবিধা পাইনি। আমরা মেম্বর চেয়ারম্যানদের বলেছি কিন্তু তারা না দিলে তো কিছু করার নেই। এদিকে সংশ্লিষ্ঠ ওয়ার্ডের দুইজন মৃত ব্যক্তির বয়স্ক ভাতার টাকা তুলে হজম করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। নওদাপাড়া গ্রামের ফজলুর রহমান, তিনি ২০১৬ সালের ১৩ এপ্রিল মারা যান। একই গ্রামের টিপু সুলতান তিনি ২০১৬ সালের ১ জুন মারা যান। অভিযোগ আছে মহিলা মেম্বর সফুরা বেগম এই মৃত ব্যক্তিদ্বয়ের টাকা তুলে হজম করে ফেলেছে। তিনি  সমাজসেবা বা সংশ্লিষ্ট ব্যংকে মৃত ব্যক্তিদের বিষয়ে কোন তথ্য সরবরাহ করেননি। মৃতব্যক্তিদ্বয়ের বয়স্কভাতার টাকা তিনি উত্তোলন করেছেন বলে এলাকাবাসি অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে মহিলা মেম্বরের নিকট মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি এ ঘটনা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তির এক মাসের টাকা তোলা যায়। আমি ওই টাকা তুলে গরীবের মাঝে বিতরন করেছি। বিলু বিবির বিষয়ে বলেন এবার কার্ড এলে চেয়ারম্যানকে বলে তার একটি ব্যবস্থা করা হবে। ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বর শিমুল হোসেন জানান, তিনি নতুন মেম্বর হয়েছেন এসব বিষয়ে তার অনেক কিছুই অজানা। তবে এবার নতুন কার্ড হলে তার কার্ডের জন্য সুপারিশ করা হবে বলে তিনি জানান। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান শেখ আনোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, বিগত কোন চেয়ারম্যান তার নামে কোন কার্ড দেয়নি। আমি বিষয়টি শুনেছি। এবার অবশ্যই দেয়া হবে।




সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft