জাতীয়
ভারতীয় পর্যটক ভিসার ই-টোকেন লাগবে না, কার্যকর পহেলা জানুয়ারি থেকে
ফয়সল ইসলাম :
Published : Thursday, 29 December, 2016 at 12:58 AM, Update: 29.12.2016 1:14:12 AM
ভারতীয় পর্যটক ভিসার ই-টোকেন লাগবে না, কার্যকর পহেলা জানুয়ারি থেকে পর্যটক (টুরিস্ট) ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে এ্যাপয়েনমেন্ট ডেট বা ই-টোকেন প্রথা তুলে নিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন। আসছে পহেলা জানুয়ারি থেকে ই-টোকেন ছাড়াই টুরিস্ট ভিসার আবেদন জমা দেয়া যাবে নির্দিষ্ট ভারতীয় ভিসা এ্যাপলিকেশন সেন্টারে (আইভিএসি)।
গতকাল ভারতীয় হাইকমিশন এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তি প্রক্রিয়া সুবিন্যস্ত, উন্মুক্ত ও সহজ করার চলমান প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ভারতীয় হাই কমিশন নিশ্চিত বিমান, ট্রেন বা বাসের (যথাযথ বাংলাদেশ-ভারত বাস সার্ভিস কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত) টিকেটসহ সকল বাংলাদেশী ভ্রমণকারী ই-টোকেন/আগাম অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ ছাড়াই তাদের টুরিস্ট ভিসা আবেদনপত্র নতুন বছরের পহেলা দিন থেকে জমা দিতে পারবেন। শনিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মহিলা পর্যটকগণ আবেদন জমা দেয়ার সুযোগ পাবেন। শনিবার শুধুমাত্র মহিলা পর্যটকরা আবেদন জমা দিতে পারবেন। ভ্রমণেচ্ছুরা ভ্রমণের নিশ্চিত টিকেটসহ তাদের পূরণকৃত ভিসা আবেদনপত্র আইভিএসি মিরপুর, আলামিন আপন হাইটস, ২৭/১/বি (২য় তলা), শ্যামলী (শ্যামলী সিনেমা হলের বিপরীতে), মিরপুর রোড, ঢাকাতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জমা দিতে পারবেন। ভ্রমণের তারিখ ভিসা আবেদনপত্রের জমাদানের ৭ দিন পরের তবে, ১ মাসের মধ্যে হতে হবে।
নিশ্চিত বিমান, ট্রেন বা বাসের (যথাযথ বাংলাদেশ-ভারত বাস সার্ভিস কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত) টিকেটসহ নারী ভ্রমণকারী ও তাদের নিকটতম পরিবারের সদস্যদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছাড়া সরাসরি আবেদনপত্র জমাদানের স্কিমটি আইভিএসি উত্তরার পরিবর্তে পহেলা জানুয়ারি থেকে আইভিএসি মিরপুর কেন্দ্রে অব্যাহত থাকবে। আইভিএসি উত্তরায় শুধুমাত্র বিজনেস ভিসা, এন্ট্রি ভিসা, কুটনৈতিক পাসপোটধারী ব্যক্তিরা পরিবারিক সদস্যদের জন্য ভিসা এবং সিনিয়র সিটিজেনদের (৬৫ থেকে ৬৫ বৎসরের উর্দ্ধে) ভিসার আবেদন সরাসরি গ্রহণ করবে। টুরিস্ট ভিসার আবেদন ই-টোকেন অনুযায়ী গ্রহণ করা হবে। বাস নিশ্চিত টিকিটের ক্ষেত্রে বিআরটিসি, সৌহার্দ্য, শ্যামলী, ত্রিপুরা পরিবহন, রেলওয়ে এবং এয়ার টিকিট গ্রহণযোগ্য।
এছাড়াও অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখ/ই-টোকেনধারী আবেদনকারীরা তাদের টুরিস্ট ভিসা আবেদনপত্র আইভিএসি গুলশান, উত্তরা, মতিঝিল, ময়মনসিংহ, বরিশাল, খুলনা, যশোর, রংপুর, রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও সিলেটে জমাদান অব্যাহত রাখতে পারবেন। আইভিএসি মিরপুরে পহেলা জানুয়ারি থেকে নিশ্চিত ভ্রমণকারী ও প্রবীণ নাগরিকদের সরাসরি টুরিস্ট ভিসা আবেদপত্র গ্রহণ করবে।
এসব ব্যবস্থা প্রবর্তনের ফলে ভারত ভ্রমণের নিশ্চিত টিকেটসহ বাংলাদেশের কোন আবেদনকারীর আর ই-টোকেন/অনলাইন অ্যাপয়েন্টমেন্ট তারিখের প্রয়োজন হবে না। ভারত ভ্রমণেচ্ছু বাংলাদেশীদের ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তি সহজ এবং দু’দেশের মধ্যে মানুষে-মানুষে যোগাযোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এসব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে ভারতীয় হাইকমিশন দাবি করেছে।
ভারতের ভিসা প্রাপ্তিতে বাংলাদেশীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে টুরিস্ট ভিসার আবেদনকারী রয়েছেন চরম বিপদে। ই-টোকেন নামে সোনার হরিণ ধরতে গিয়ে প্রতিনিয়ত নাকাল হতে হচ্ছে। বাংলাদেশীদের ভারতীয় ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রে ২০০৯ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ই-টোকেন প্রথা চালু করা হয়। এ পদ্ধতিতে  ২০১৪ সাল পর্যন্ত  খুব সহজে প্রার্থীরা ই-টোকেন সংগ্রহ করে আবেদন জমা দিয়ে ভিসা গ্রহণ করতে পেরেছেন। সময়ের সাথে প্রক্রিয়াটি জটিল আকার ধারণ করেছে। একটি মহল ভিসা এ্যাপলিকেশনের জন্যে নির্ধারিত ওয়েব সাইটটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ই-টোকেন ব্যবসা জমজমাট করেছে। ২ হাজার থেকে ৫ হাজার, কোন কোন ক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে ই-টোকেন সংগ্রহের ব্যবসা চলছে। এ বিষয়টি নিয়ে জনমনে বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের উর্ধ্বতন মহল থেকে ভারতীয় হাই কমিশনসহ সে দেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। দাবি করা হয়েছে বাংলাদেশীদের ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করার। ভারতের সরকার বিভিন্ন সময় ভিসা এ্যাপলিকেশন ওয়েব পোর্টাল পরিবর্তনসহ নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ভারতীয় হাইকমিশন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে টুরিস্ট ভিসা ব্যতিত অন্যান্য ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে ই-টোকেন লাগবে না। ব্যবসা, মেডিকেল, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ ১০ ক্যাটাগরির ভিসা প্রার্থীদের ই-টোকেন ছাড়াই আবেদন জমা দেয়ার সুযোগ দেয়া হয়। কিন্তু তাতে খুব একটা লাভ হয়নি। ভারতের ভিসা প্রার্থীদের দু-তৃতীয়াংশ টুরিস্ট ভিসার জন্যে আবেদন করে থাকেন। অন্যান্য ভিসার আবেদন ক্ষেত্রে নানা শর্ত থাকায় টুরিস্ট ভিসার প্রতি বাংলাদেশীদের আগ্রহ বেশি। ফলে ই-টোকেন  সংগ্রহের সমস্যা থেকেই গেছে।
গত জানুয়ারিতে ভারত সরকারের প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত বছর (২০১৫ সালে) দেশটিতে ৯ লাখ ১৩ হাজার বিদেশী পর্যটক গিয়েছিলো। এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে পর্যটকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এরপরেই বাংলাদেশিদের অবস্থান। অর্থাৎ ৯ লাখ তের হাজার পর্যটকের মধ্যে প্রায় ১৯ শতাংশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এবং বাংলাদেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রায় ১২ শতাংশ। তারপরও বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী পর্যটক ই-টোকেন জঠিলতার কারণে ভিসা বঞ্চিত হচ্ছে। বেগতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে পর্যটক ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ই-টোকেনের গ্যাড়াকলে পড়া বিক্ষুব্ধ বাংলাদেশীরা চলতি বছরের এপ্রিলে সোশ্যাল মিডিয়া প্রতিবাদের ঝড় তোলেন। শুরু হয় প্রতিবাদী গণ ই-মেইল কর্মসূচি। এ সংবাদ প্রকাশ হয় আন্তর্জাতিক মিডিয়ায়। এতে ভারত সরকারের টনক নড়ে। ভারতীয় হাই কমিশন ২৯ মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ৩০ মে থেকে টুরিস্ট ভিসার আবেদনকারীদের মোবাইলে এসএমএস এর মাধ্যমে ই-টোকেন নিশ্চিত করা হবে। ওই এসএমএস দেখিয়ে আইভিএসি’তে আবেদন জমা দিতে হবে। একই সাথে ৪ জুন থেকে ১৬ জুন পর্যন্ত কোন ই-টোকেন ছাড়াই গুলশান আইভিএসি’তে আবেদন গ্রহণ করা হয়। ওই স্কিমে প্রায় ৬০ হাজার মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা ইস্যূ করা হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ দাবি করে। এসএমএস পদ্ধতিতে ই-টোকেন নিশ্চিত করার প্রক্রিয়াটি মাস খানেক খুব ভালো চলেছিলো। সাধারণ আবেদনকারী নিজেদের ই-টোকেন সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। বর্তমানে সিস্টেমটি আবারো হ্যাকারদের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। টাকা ছাড়া মিলছে না ই-টোকেন। আবারো তোড়জোড় শুরু হয়েছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের। টুরিস্ট ভিসার জন্যে আবেদনকারীদের সুবিধার্থে ই-টোকেন জন্যে নির্ধারিত ওয়েব পোর্টালটিতে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ৬৫ বছর বা তার উর্ধ্বে বয়স্ক নাগরিকদের জন্যে ই-টোকেন ছাড়া ভিসা আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। একই সাথে তাদের ৫ বছর মেয়াদী মাল্টিপল এন্টি টুরিস্ট ভিসা দেয়া হচ্ছে। গত ৩ অক্টোবর থেকে নিশ্চিত বিমান, ট্রেন বা বাসের (যথাযথ বাংলাদেশ-ভারত বাস সার্ভিস কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত) টিকেটসহ নারী ভ্রমণকারীদের ই-টোকেন ছাড়া ভিসা আবেদন গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। ২২ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্যে উন্মুক্ত করা হয়েছিলো ই-টোকেন ছাড়া ভিসা আবেদন জমা দেয়ার।
শুধু ই-টোকেন পদ্ধতিতে পরিবর্তন ও সহজতর করার প্রক্রিয়ায় থেমে নেই কর্তৃপক্ষ। আবেদনকারীদের সুবিধার্থে নতুন ভিসা এ্যাপলিকেশন (আইভিএসি) সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। গত ২০ ডিসেম্বর থেকে যশোরে আইভিএসি চালু হয়েছে। প্রথম দিনেই এ কেন্দ্রে ৪শ’ ২৮ জন ভিসা জমা দেন। ২৭ ডিসেম্বর তারা ভিসাসহ পাসপোর্ট ফেরত পেয়েছেন।



সর্বশেষ সংবাদ
আরো খবর ⇒
সর্বাধিক পঠিত
 আমাদের পথচলা   |    কাগজ পরিবার   |    প্রতিনিধিদের তথ্য   |    অন লাইন প্রতিনিধিদের তথ্য   |    স্মৃতির এ্যালবাম 
সম্পাদক ও প্রকাশক : মবিনুল ইসলাম মবিন
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : আঞ্জুমানারা
পোস্ট অফিসপাড়া, যশোর, বাংলাদেশ।
ফোনঃ ০৪২১ ৬৬৬৪৪, ৬১৮৫৫, ৬২১৪১ বিজ্ঞাপন : ০৪২১ ৬২১৪২ ফ্যাক্স : ০৪২১ ৬৫৫১১, ই-মেইল : gramerka@gmail.com, editor@gramerkagoj.com
Design and Developed by i2soft